আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

সম্পদের উপর কর: অর্থনৈতিক সূচক থমকে যাওয়া। জনগণকে সঞ্চয় বিমুখের পথে উৎসাহিত করা

 



সম্পদের ওপর কর: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নাকি ইকোনমিক ধ্বংসের সিদ্ধান্ত।

একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে যৌক্তিক কর ব্যবস্থার ওপর। সাধারণত আয় বা মুনাফার ওপর কর (Income Tax) আরোপ করাই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত নিয়ম। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে সম্পদের ওপর কর (Wealth Tax) আরোপের যে আলোচনা এনবিআর ও সরকারের নীতি নির্ধারক মহলে চলছে, তা বিনিয়োগকারী এবং অর্থনীতিবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সম্পদের ওপর কর আরোপকে অনেক ক্ষেত্রে একটি "ব্যর্থ বামপন্থী ধারণা" হিসেবে গণ্য করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
দলীল,কাগুজে সম্পদ বনাম নগদ উপার্জন
সম্পদ করের প্রধান সমস্যা হলো এটি 'অবাস্তবায়িত মুনাফা' বা 'Unrealized Gain'-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। একজন বিনিয়োগকারী যখন কোনো কোম্পানিতে পুঁজি খাটান, তখন তার শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও হাতে নগদ টাকা আসে না যতক্ষণ না তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করছেন। একইভাবে, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি বা স্থাবর সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পেলেই মালিকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে না। এই অবস্থায় সম্পদের ওপর কর আরোপ করা হলে মালিককে কর পরিশোধের জন্য হয় সম্পদ বিক্রি করতে হয়, অথবা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ ধার করতে হয়। যা মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উক্ত সম্পদ গলার কাটা হয়ে দাঁড়াবে।
এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের এক ধরনের জবরদস্তি হিসেবে গণ্য হবে।
সঞ্চয়ের ওপর দ্বৈত করের বোঝা
ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে এই কর ব্যবস্থা আরও বেশি বৈষম্যমূলক। একজন নাগরিক তার উপার্জিত আয়ের ওপর নির্ধারিত আয়কর দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ সঞ্চয় করেন। এখন সেই জমাকৃত অর্থের ওপর যদি পুনরায় সম্পদ কর আরোপ করা হয়, তবে তা 'ডাবল ট্যাক্সেশন' বা দ্বৈত করের নামান্তর। এটি মানুষকে সঞ্চয় করার পরিবর্তে অপচয় করতে বা অপ্রদর্শিত উপায়ে অর্থ রাখতে প্ররোচিত করে। অর্থাৎ তখন মানুষ চাকরী,ব্যাবসার বা ইনকামের টাকা, ব্যাংকে না রেখে ব্যাক্তিগতভাবে তা সংরক্ষণ করতে চায়বে যা কোনভাবেই সম্ভব নয়। অথবা উপার্জনের টাকা ট্যাক্স দেওয়ার ভয়ে অপচয় অথবা বিলাসিতায় খরচ করতে উদ্ভুদ্ধ হবে। মানে যা ইনকাম হবে তা-ই খরচ করতে উদ্ভুদ্ধ হবে।
বিনিয়োগ নিরুৎসাহ এবং পুঁজি পাচার (Capital Flight)
বিনিয়োগকারীরা সবসময় স্থিতিশীল এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ খোঁজেন। সম্পদের ওপর কর আরোপ করলে বড় বিনিয়োগকারীরা দেশে সম্পদ ধরে রাখতে ভয় পান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩-৪% খরচে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানো সম্ভব, সেখানে সম্পদ কর আরোপ করা হলে পুঁজি পাচার ব্যাপক আকার ধারণ করার ঝুঁকি থাকে। মানুষ দেশে সম্পদ আহরণ (Accumulation) করার পরিবর্তে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে সম্পদ সরানোকে নিরাপদ মনে করবে। কারণ দুবাই এবং মালেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সরকার অর্থ উপার্জন সঞ্চয় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। ট্যাক্স নেয়না। ফলে বিশ্বের সব দেশ থেকে শিল্পপতিরা সেই সমস্ত দেশগুলোতে ইনভেস্ট করতে আসে,বিজনেস করে।
যার ফলে বিদেশী ইনভেস্টর যারা তারা তো এই দেশে বিনিয়োগ করবেই না বরং এতে দেশীয় শিল্পায়ন থমকে যাবে তারা ব্যবসা-বানিজ্য গুছিয়ে বিদেশ মুখী হবে এবং দেশে কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ফ্রান্সসহ অনেক ইউরোপীয় দেশ এক সময় সম্পদ কর চালু করেছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে পুঁজি পাচার এবং বিনিয়োগ হ্রাসের কারণে তারা এটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। বিশ্বের সফল অর্থনীতিগুলো সবসময় আয়ের ওপর কর (Transaction-based tax) আরোপ করে, সম্পদের ওপর নয়। যখন টাকা লেনদেন হবে বা মুনাফা হবে, তখনই রাষ্ট্র তার অংশ বুঝে নেবে—এটাই হওয়া উচিত কর ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

বাংলাদেশের মতো হামাগুড়ি দিয়ে অর্থনীতির পথে উড্ডয়নের শুরুতেই যে বাঁধা তৈরী হয়েছে বিগত কয়েকবছরে এর জন্য এখন প্রয়োজন অধিকতর বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান। এই সময়ে সম্পদের ওপর কর আরোপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। সম্পদ কর আরোপের ফলে সাময়িকভাবে সরকারের রাজস্ব কিছুটা বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। তাই টেকসই অর্থনীতির স্বার্থে কর ব্যবস্থাকে আয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ