ইসলামি দলের নির্বাচনী উপাখ্যন
অনেকের আশা এবার ইসলামী দলকে ভোট দিয়ে অতীতে যতো গুন্ডা মাস্তানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে যত অপরাধ করেছি এবার একজন আল্লাহওয়ালা,বুজুর্গ ব্যাক্তিকে ভোট দিয়ে অতীত পাপের প্রয়শ্চিত্ত করবো। সেই আশা নিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত। কেন্দ্র যাচ্ছে আর বলছে এবার এমন একজন ব্যাক্তিকে ভোট দিবো যার থেকে এক কাপ চায়ও খাইনি, এইবারের ভোট আল্লার জন্যই দিবো।
দুপুর শেষে সন্ধ্যা ভোটের ফল গণনা করার পালা। প্রতিটা কেন্দ্রে সব প্রার্থীর পুলিং এজেন্ট নিয়োগ থাকলেও ইসলামি দলের বুজুর্গ ব্যাক্তির এজেন্ট নেই।
বিভিন্ন কেন্দ্রে থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে।
মানুষ ইসলামী দল বলে এতো পরিমাণ ভোট দিয়েছে যে, উক্ত আসনের প্রথম পজিশনে থাকা ব্যাক্তির সমান বা কাছাকাছি পর্যায়ের রেজাল্ট আসছে সব জায়গা থেকে।
ময়মনসিংহ ১ আসনের কথা বলছি।
নামকরা ইসলামি দলের কেন্দ্রীয় নেতা। বুজুর্গ মানুষ। আসন সমোঝোতায় এতো পরিমাণ সময় নষ্ট করেছে দলটি, নির্বাচনের বাকী ছিলো মাত্র ২ সপ্তাহ। নতুন নেতা,নতুন মার্কা,নতুন দল কেউ চিনেও না। মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার সময় কোথায়, মানুষের কাছে প্রার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার সময়টুকু হয় নাই।
নির্বাচনের পরেরদিন জুমার নামাজের পর কেউ ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলো।
মানুষ আপনাদের যথেষ্ট পরিমাণ ভোট দিয়েছে
"হুজুর, আপনাদের এই ভরাডুবির কারণটা কী বলে মনে হয়?"
উত্তরে বললেন "দেখেন ভাই, ভোট হলো পবিত্র আমানত, মানুষ সেই আমানত যথাস্থানে প্রয়োগ করেছে। সেটা রাষ্ট্র দেখাশোনা করবে
নির্বাচনের নিয়ম ছিল—আমরা ‘ফ্রি’ ইলেকশন করবো। এখন ইলেকশন যদি ফ্রি হয়, তবে আমরা কেন মেহনত করব? আমরা তো ফ্রি-তেই চেয়েছি! এই জন্য কোন টাকা খরচ করে কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়নি,কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব তো আমাদের না, সরকারের।
🚫 কর্মীদের আধ্যাত্মিক চিন্তা
"ভাবখানা এমন যেন আবাবিল পাখি এসে ব্যালট বাক্সে সিল মেরে দিয়ে যাবে।"
ভোটের রাতে কেন্দ্রে কোন পাহারাদার নেই,এলকায় কোন কমিটি নেই, বিপক্ষের প্রার্থীর লোকজন ঠিকই রাতে রাতে ঘরে টাকা দিয়ে গেছে, ভোট কালেকশন করে গেছে।
ভোটের দিন সকালে কি ফেরেশতা এসে ভোট দিয়ে যাবে?ওদিকে প্রতিপক্ষ দল বাস্তবে 'মানুষ' দিয়েই কেন্দ্র দখল করে ফেলেছে। যাতায়াত সুবিধা ব্যাবস্থা করে,কেন্দ্রের প্রতিটা প্রবেশপথে ভোটারের হালচাল জিজ্ঞেস করে,খাবার আপ্যায়নসহ ভোটারদের মন জয় করে ফেলেছে।
🚫গণনার সময় 'নিখোঁজ' দায়িত্বশীল পুলিং এজেন্ট
সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটেছে ভোট গণনার সময়। বিকেলে যখন রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করতে বসলেন, তখন দেখা গেল ইসলামি দলগুলোর কোনো এজেন্ট বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি সেখানে নেই।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আসরের নামাজের পর থেকেই তারা যার যার বাড়িতে গিয়ে আরাম করছেন। কেন? তাদের যুক্তি হলো:
"আমরা তো জানিই যে আমরা হেরে যাব। তো শুধু শুধু অন্যের জেতা দেখার জন্য গণনাকেন্দ্রে বসে মশা কামড়ানোর কী দরকার? হেরে যাওয়ার খবরটা তো মোবাইল দিয়েই জানতে পারবো।
হয়তোবা এটাও মনে করতে পারেন ভোট গণনার সময় থাকাটা একটা ফেতনা। ওখানে গিয়ে হট্টগোল হবে, গীবত হবে। তার চেয়ে আমরা আগেই ইস্তফা দিয়ে আধ্যাত্মিক শান্তিতে থাকাই শ্রেয় মনে করেছি।"
🚫 নির্বাচন যখন 'বিনামূল্যে'
ইসলামি দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এবার ভেবেছিলেন, মানুষ নিজ থেকেই তাদের খুঁজে বের করে ভোট দেবে। প্রচার-প্রচারণার বালাই ছিল না। অনেকেই নিজের মার্কা দিয়ে একটা গান বানিয়ে নিজে নিজে শুনেই ক্ষান্ত, নিজের নামে নির্বাচনী গান শুনতে ভালোই লাগে।
তাদের লজিক ছিল—"আমরা তো কোনো টাকা খরচ করছি না, এটা একদম 'পিওর' নির্বাচন।" এতো বছর ধরে ওয়াজ করি,প্রোগ্রাম করি মানুষ কি আমাকে চেনার বাকি আছে? তাহলে কেন জায়গায় জায়গায় নির্বাচনী অফিস করতে হবে? এগুলো টাকা অপচয়।
কিন্তু জনতা ভাবল অন্য কিছু। চায়ের দোকানে এক মুরুব্বি বললেন, "বাবা, যারা ভোটের আগে এক কাপ চাও খাওয়াইনা, আমাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেনা,মানুষের খোঁজ খবর নেয়না। তারা দেশ চালাবে কী করে?" ফলাফল যা হওয়ার তাই হলো—ফ্রি নির্বাচনের চক্করে নেতারা এখন একদম 'ফ্রি' হয়ে বাড়িতে বসে আছেন।
শেষ কথা,,,,,,
রাজনীতি এতো সহজ নয়, ৫ আগস্টের পর আপনি যদি মনে করেন আবু সাঈদ, মুগ্ধের চেতনা আর কবর থেকে তাদের দোয়ায় আপনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে যাবেন তাহলে আপনাকে ইসলামী দলের প্রার্থী মনে করে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ আপনাদের ভোট দেয় তাদেরকে বার বার হতাশ করবেন। সিজনাল রাজনীতি করলে হবেনা, রাজনীতি একদিনের নয় প্রতিদিনের। মানুষের সাথে মিশতে হবে,তাদের কথা শুনতে হবে,পক্ষের বিপক্ষের লোকদের চিনে আপন করতে হবে। ভোটের দিন রাতে, ভোটের সময় কেন্দ্রে, ভোট গণনার শেষ সময় পর্যন্ত আপনার শক্ত অবস্থান থাকতে হবে। আপনি হারেন আর জিতেন এতটুকু দায়িত্বশীল হতেই হবে। এর জন্য এমপি প্রার্থী হওয়ার আগে ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরী।
#নির্বাচ

0 মন্তব্যসমূহ