নির্বাচনী উপাখ্যান
বাংলাদেশে নির্বাচন আসা মানেই আকাশ-বাতাসে উৎসবের আমেজ। চায়ের কাপে ঝড় নয়, রীতিমতো সাইক্লোন বয়ে যায়। আমাদের দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল এতটাই গুণী যে, কাকে রেখে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে ভোটাররা রীতিমতো হিমশিম খান। চলুন দেখা যাক আমাদের সেই রাজনৈতিক দলগুলোর গুণাবলী
১.অভিমানী দল: উন্নয়নের জাদুকর
শাসক দলের গুণগান গেয়ে শেষ করা যাবে না। তাদের প্রধান গুণ হলো ‘নির্ভীকতা’। তারা এতই নির্ভীক যে, বিরোধী দল কী বলল, দেশের জনগণ কী ভাবল, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তারা উন্নয়নের জোয়ারে দেশকে এমনভাবে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে যে, দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা এখন সেই উন্নয়নে সাঁতার কাটতে কাটতে বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেনা। অনেকেই অভিমান করে আত্মগোপনে পাশের দেশের অবস্থান করছে।
তাদের কর্মীরা এতটাই তৎপর এবং নিবেদিত ছিলো যে, ভোটের দিন ভোটারদের কষ্ট করে কেন্দ্রে যেতে হতো না; ভোটার যাওয়ার আগেই ভোটটি বাক্সে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকতো
২. প্রধান সুবিধাবাদী দল:
এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তাদের ‘অসীম ধৈর্য’বছরের পর বছর তারা শুধু অপেক্ষায় থাকে! প্রথমটি সেনা অভ্যুত্থানের অপেক্ষার মূহুর্তের মধ্যেই তারা আত্মপ্রকাশ করে। এরপর মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেও গেছেন।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনাহারে ওষ্ঠাগত নিঃশ্বাস।
কখন সেই কাঙ্খিত সুবিধা আসবে, তাদের অধৈর্য্যর চূড়ান্ত সীমা ছিলো ঈদের পরে আন্দোলন।
আন্দোলনের ডাক দিয়ে যায়, কিন্তু আন্দোলনের ফলাফল আর আসে না।
এক সময় এলো এক ঘুঘু শিকারী, যাকে অনেকেই বলে বিদেশি শক্তি। যে ঘুঘু দিয়েই ঘুঘু শিকার করে চলে গেলো।
সুবিধাবাদী দলটির আরও একটি সুযোগ তৈরি হলো
তাদের দাবী ৫ আগস্টের ঘুঘুর ফাঁদটুকুর সম্পূর্ণ অবদান এবং অর্জন নিজেদের ঝোলায় লুকিয়ে থাকা ঈদের পরে আন্দোলনেরই না কী ফলাফলই ছিলো
৩. তৃতীয় শক্তি: আদর্শের পাহাড়
মাঝেমধ্যে কিছু খুচরা দল উদয় হয়, যাদের গুণ হলো ‘পবিত্রতা’। তারা এতই আদর্শবান যে, তাদের দলের সদস্য সংখ্যা এবং ভোটের সংখ্যা সবসময় সমান থাকে।
(অর্থাৎ শূন্যের কাছাকাছি)।
যতোদিন না বয়স হয়েছে তার চেয়ে বেশি নীতি কথা শোনায়,তারা জয়ের চেয়ে নীতিতে বিশ্বাসী। মোবাইল সাংবাদিকদের দিয়ে
মাঝেমধ্যে অন্য দলের অফার পেলে নিজের দল ছেড়ে দিতেও রাজী। এদের চেয়ে লিডার খায়রুল দেওয়ান অনেক বিশ্বাসী এবং জনদরদী।
চতুর্থ শক্তি: মুদ্রার উল্টো পিঠ
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিই যাদের মূল শক্তি। শত দলে বিভক্ত হলেও উদ্দেশ্য এক ইসলাম কায়েম করবে। কেউ কাউকে মানে না, সবাই সবার গুণে গুণান্বিত, একজন অপরজনের দোষ চর্চা করতে করতেই সকাল - সন্ধ্যা শেষ হয়। একদল অপর দলের বিপক্ষে জি-হাদের ফতোয়া দেয়,একদল অপর দলকে হারামের বয়ান দেয়।
দলগুলোর ভক্ত অনুসারীদের কাছে তাদের সকল নেতাই মহামান্য। প্রতিটা দল ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হচ্ছে। এই দলগুলোর কর্মীদের বড় একটা গুণ হলো তাদের কোন চাওয়া পাওয়া নাই, কারণ হলো তাদের নেতাদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার তেমন কোন আশংকাই নাই। নিজেদের অনেকের এনআইডি কার্ডও নাই।
বাস্তবতা-------
শাসক দল যখন দেশ গড়ার কথা বলে, তখন বিশ্বে দূর্নীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে থাকে।
বিরোধী দল যখন গণতন্ত্রের জন্য কাঁদে, তখন বোঝা যায় তারা আসলে নিজেদের হারানো 'লুটপাটের স্বর্গরাজ্য' ফিরে পাওয়ার জন্য বিলাপ করছে। তাদের কাছে 'জনসেবা' মানে হলো সুযোগ পেলে আবারও বিদ্যুতের খাম্বা বসিয়ে দেশ অন্ধকার করা।
শেষ কথা--------
আসলে নির্বাচনে কোনো দলই অযোগ্য নয়। সবাই যোগ্য! কেউ টাকা পাচারে যোগ্য, কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে যোগ্য, আর কেউ জনগণকে বোকা বানাতে যোগ্য। ভোটার হিসেবে আমাদের কাজ হলো—সবচেয়ে কম ক্ষতিকর লোকটিকে খুঁজে বের করা। যার মাধ্যমে দেশের ক্ষতি কম হবে এমন একজন প্রার্থীকে চয়েজ করা। এমন দলের সমর্থন না করা যার মাধ্যমে চাঁদাবাজি বেড়ে যাবে, দূর্নীতিতে বিশ্বে চ্যাম্পিয়ান হবে।
এবারের নির্বাচন,দল এবং মার্কা দেখে নয় ব্যাক্তি দেখে হোক।
তোফায়েল আহমাদ

0 মন্তব্যসমূহ