একটা কবিতা লেখতে প্রথমত আপনাকে ঠিক করতে হবে কবিতার বিষয় কী?
তারপর কবিতার ছন্দ, লয়, তাল। স্বর.ধ্বনি।
যেগুলো ছাড়া কবিতা লবণহীন,বিস্বাদ মনে হবে।
প্রথম লাইন দ্বিতীয় লাইন বা প্রথম অংশ দ্বিতীয় অংশের মাঝে অর্থ এবং ভাবের সম্পর্ক।
তারপর শব্দের বিপরীতে শব্দ দাঁড় করানো স্বরের বিপরীতে স্বর-ছন্দ তৈরী করা। এছড়াও কবিতার জন্য লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো বাংলা উচ্চারণের স্বর বা ধ্বনি।যা দুই প্রকার
১. বদ্ধস্বর
যে স্বর বা ধ্বনি মুখে উচ্চারণের সময় প্রবাহমান বাতাস বাধাগ্রস্ত হয় আওয়াজকে চেপে রাখে তাকে বদ্ধস্বর বলে। যেমন কর,ধর,কাক,হাঁক,ডর,ঝাঁক,দিন
২. মুক্তস্বর
যে সব শব্দ উচ্চারণের সময় প্রবাহমান বাতাস বাধাগ্রস্ত হয়না এবং মুখের বাহিরে বের হয়ে আসে তাকে মুক্তস্বর বলে।
যেমন: না,লা,কা,পা,দা,মা,চা,দি,বা,বু
বিশ্লেষণ : (ধরলাম) এই শব্দটিতে দুটো বদ্ধস্বর আছে যেমন ধর্ এবং লাম্
তাহলে আমরা সহজেই বলতে পারি এখন (ধরলাম) শব্দটি দুটো বদ্ধস্বর দিয়ে গঠিত।
অনুরুপভাবে কখনো একটি শব্দে বদ্ধ এবং মুক্ত দুটো স্বরই থাকতে পারে।
(সংসারে) শব্দটিতে সং হলো বদ্ধস্বর এবং সা,রে হলো মুক্তস্বর
কবিতার জন্য আরও একটি বিষয় হলো ছন্দ তৈরী করা। ছন্দ আবার তিন প্রকার।
১. স্বরবৃত্ত ছন্দ
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
অনেক খ্যাতিমান কবিদের কবিতায় এই সমস্ত বিষয়াবলী অনুপস্থিত থাকে।
এগুলোর মাঝে দুএকটা তাল বা লয় ঠিক থাকলেও লেখার মূল ভাষা এবং উদ্দেশ্য ঠিক থাকেনা।
যারা কবিতা লেখায় আগ্রহী তাদের ছোট্ট এই কয়েকটি নিয়ম মেনে লেখে উচিত।
---তোফায়েল আহমাদ ১৭/১০/২৪

0 মন্তব্যসমূহ