ইন্ডিয়া কেন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার পার্শ্ববর্তী দেশ হলো পাকিস্তান, চীন,ইন্ডিয়া,মিয়ানমার। সবগুলো দেশ চায় বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক মজবুত রাখতে। বিশ্বের সুপার পাওয়ারগুলোও চায় এশিয়াতে রাজনৈতিক
আধিপত্য বিস্তার করতে সে হিসেবে তাদের কাছেও বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই বিষয়টাই ইন্ডিয়ার মাথাব্যথার বড় কারণ। অর্থাৎ যে কোন মূল্যে ইন্ডিয়া চায় বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক রাখতে।
বাংলাদেশে অন্য কোন দেশের সাথে বিজনেস করুক, ভিন্ন কোন দেশ বাংলাদেশে এসে অবস্থান তৈরি করুক ইন্ডিয়া এটা কোনভাবেই চায়না। এই দেশ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
৪৭ এর দেশ ভাগ, জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত,পাকিস্তান আলাদা হওয়ার সমর্থন হিন্দু এবং মুসলমান উভয়ের ছিলো। কিন্তু ৭১এ পূর্বপাকিস্তান আলাদা হওয়ার পিছনে ভারতের সহযোগিতা এবং পক্ষে থাকার বড় কারণ ছিলো এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করা।
বিজনেস পলিসি
এছাড়াও বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার সম্পর্ক রাখার একটা বড় কারণ হলো বিজনেস পলিসি।
বাংলাদেশ ভূমি এবং আয়তনে ছোট হলেও জনবহুল এলাকা। এদেশের আয়তন হিসেবে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১২৬৫ জন লোক বসবাস করে। যা পৃথিবীর বড় দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্ব থেকে অনেক বেশি।
যে দেশের জনসংখ্যা বেশি তাদের খাদ্যের চাহিদা বেশি। বাংলাদেশ খাদ্য-চাহিদায় স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, আবার আমদানি নির্ভরশীল দেশ। তাই এই দেশর সাথে তাদের বিজনেস সম্পর্ক মানে স্বল্প খরচে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। হাসিনা আমলে যেটা হয়েছে। চাল,ডাল,পেঁয়াজ, মশলা,প্রসাধনী থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক পণ্য মোবাইল-ফোন,টিভি,ফ্রিজ এমন ৮০% পণ্য ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করতে হতো।
আমাদের এমন আমদানি নির্ভর হওয়ার কারণে উল্লেখিত দেশগুলোর যে কোন একটার সাথে সম্পর্ক রাখা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার সাথে বিজনেস না করলে হয়তো পাকিস্তানের সাথে করতে হবে অথবা চীনের সাথে করতে হবে। তবে সকল পণ্যের চাহিদা মেটাতে চীনও পারবেনা, পাকিস্তানও পারবেনা। কারণ খাদ্য আমদানিতে পাকিস্তান আমাদের ০.১% চাহিদ মেটাতে পারবে। তাও এর জন্য চড়ামূল্যে পরিশোধ করতে হবে।
চীন উল্লেখযোগ্য ফল এবং মাংস ছাড়া খাদ্য আমদানিতে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারবেনা। তাই যে সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক না কেন ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্ক রাখতে বাধ্য হবে।
যার ফলস্বরূপ চাইনিজদের সাথে অতীত সরকারের বিজনেস সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার একমাত্র কারণ ছিলো ইন্ডিয়া থেকে সকল পণ্যের আমদানিতে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ হওয়া।
হাসিনা সরকার ইচ্ছে করে ইন্ডিয়াকে বাংলাদেশে ব্যাবসাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা করার সুযোগ করে দিয়েছে এটা যতোটা মিথ্যা ততোটাই সত্য প্রকাশিত হবে অন্য যে কেউ সরকার হবে তাকেও বাধ্য করা হবে ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরী করার জন্য। এর জন্য ইন্ডিয়া যে কোন পথ অবলম্বন করতে পারে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে আদিবাসী গোষ্ঠীদের উদ্ভট আচরণ এটা দেশীয় কোন ষড়যন্ত্র নয়। নিছক কোন আন্দোলন নয় বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে চাচ্ছে ওদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য।
এবং বর্তমান সরকারের সাথো ইন্ডিয়ার সম্পর্ক যত তাড়াতাড়ি উন্নতি হবে ততো তাড়াতাড়ি হাসিনার গুরুত্ব কমে যাবে এটাও বাস্তব। কারণ বাংলাদেশ ছাড়া হাসিনার দুপয়সা দাম নেই ভারত সরকারের কাছে।
প্রশ্ন হলো হাসিনাকে ভারত সরকার কেন জায়গা দিচ্ছে?
হাসিনাকে ভারত সরকার কাছে রাখার বড় কারণ হলো শেষ চেষ্টা চালিয়ে যেতে ব্যবহার করা। এবং পূণরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে তাদের সমস্ত চুক্তি অবিচল রাখা এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা।
এই সরকারের ৩০০০টন ইলিশ দেওয়ার আশ্বাস। হঠাৎ করে বর্তমান সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী?
এটাও ইন্ডিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরির একটা শুভেচ্ছা বার্তা হতে পারে। অথচ প্রতিশ্রুতি ছিলো আগে দেশের মানুষ ইলিশ খাবে তারপর অন্য কোথাও রপ্তানি হবে।
তবে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কোন চুক্তির ফাঁদে পা না দিয়ে ইলিশে দেওয়ার মতো চুক্তি দুদেশের সম্পর্ক তৈরি করার ইঙ্গিত এটা খারাপ কিছু নয়।
তোফায়েল আহমাদ
২১/৯/২৪-------5:pm

0 মন্তব্যসমূহ