আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

সন্তান


       



আজ লিনার বিয়ে। সবাই আনন্দ করছে শুধু তার মনে কোন আনন্দ নাই। পাত্র দেখতে তার বাবার সমান,কিন্তু বিশাল বড়লোক। তার ছেলেমেয়েরা সবাই এসেছে নতুন মাকে বরন করে নেওয়ার জন্য। কারও বয়স তার চেয়ে বেশি। তার সমবয়সী একটা মেয়ে তার কানে কানে এসে বললো, নতুন মা, বাবাকে পছন্দ হয়েছে তো?

  লিনা কিছু বললো না।মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস  ছেড়ে বললো, গরীবের ঘরের মেয়েদের পছন্দ থাকতে নেই!

গরীবের ঘরের সুন্দরী মেয়ে লিনা।নিজের প্রচেষ্টায় বি এ পর্যন্ত পড়ালেখা করার পর তার বাবা জোর প্রচেষ্টা চালালেন মেয়েকে পাত্রস্থ করার জন্য। দেখতে এসে সবাই পছন্দ করে কিন্তু বাড়ির দূরাবস্থা দেখে ফিরে যায়।এক সময়ে লিনার মনে হয় লেখাপড়া করে সে আরও বেশি বিপদে পড়েছে,লেখাপড়া করার ফলে শিক্ষিত পাত্র এসে আরও বেশি যৌতুক চায় যা তার বাবার দেওয়ার সামর্থ্য নেই। এক সময় লিনার বাবা আফসোস শুরু করলেন কেন তিনি মেয়েকে এতো লেখাপড়া করাতে গেলেন!

   বি এ পাশ মেয়েকে তো আর মূর্খের সাথে বিয়ে দিতে পারেন না।পছন্দ করা পাত্র বিশাল যৌতুক চেয়ে বসে থাকে।জামাল সাহেব প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তার মেয়েকে তিনি বিয়ে করতে চান,বিনিময়ে কিছু চান না,উল্টো তার বিয়ের সমস্ত খরচ তিনি বহন করবেন। তার মেয়ে সংসারে রাজরানি হয়ে থাকবে শুধু  কোন সন্তান নিতে পারবে না। উপায় না পেয়ে লিনার বাবা রাজি হয়ে যান।মা মরা মেয়েকে কতদিন আগলে রাখবেন তিনি!
 
   জামাল সাহেবের স্ত্রী মারা গেছেন দুই বছর। ছেলে মেয়ে সবাই বড় হয়ে গেছে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে লেখাপড়া শেষ করে বাবার ব্যবসার হাল ধরেছে। বাসায় এসে নিঃসঙ্গ বোধ করেন তিনি। কথা বলার জন্য হলেও একজন সঙ্গী দরকার। তিনি খুব অসহায় বোধ করতে থাকেন। অবশেষে সিন্ধান্ত নেন বিয়ে করার।
 
    বাবার বিয়ে করার কথা শুনে ছেলেমেয়েরা বেঁকে বসে। বাবা বিয়ে করলে সেই ঘরে যদি সন্তান আসে তাহলে সেই সন্তান এই বিশাল সম্পত্তির ভাগিদার হবে, এটা কেউ মেনে নিতে পারে না। তারা নানা যুক্তি দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে এই মূহুর্তে জামাল সাহেবের বিয়ে করা ঠিক হবে না। মেয়েরা এসে বাবার কাছে কান্নাকাটি শুরু করে।
   
     জামাল সাহেব তাদেরকে তার কষ্টের কথা বুঝাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন,সবাই তার সম্পত্তির ভাগ নিতে রাজি, কষ্টের ভাগ নিতে কেউ রাজি নয়!
   
    অনেক দেনদরবার করে তিনি ছেলেমেয়েদের রাজি করাতে সক্ষম হন,তবে শর্ত একটাই, তিনি নতুন করে কোন ছেলেমেয়ে নিতে পারবেন না।অসহায় জামাল সাহেব ছেলেমেয়েদের কথায় সম্মতি দেন।
   
   যাতে সন্তান না হয়, বিয়ের পরের দিন জামাল সাহেব পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতালে গিয়ে লিনাকে কপার_টি পরিয়ে আনেন।
 
   বিশাল বাড়িতে  লিনা রাজরানীর মতো চলে ফেরা করে।তাকে কোন কাজ করতে হয় না।কাজের লোকের অভাব নাই।যা চায় অনায়াসে পেয়ে যায়।
 
   দুই বছর পর, লিনাকেও একাকিত্ব পেয়ে বসে। জামাল সাহেবের অফুরন্ত মনোযোগ  পেয়েও মনে হয় কী জানি নাই। একটা সময় সে আবিস্কার করে,মা হওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা তাকে তাড়িত করে। তার মন চায় কোল জুড়ে একটা ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা আসুক, তাকে মা ডাকুক!
 
   সে তার আকাঙ্ক্ষার কথা জামাল সাহেবকে জানায়।জামাল সাহেব তার চুক্তির কথা স্মরন করিয়ে দেয়।এটা তার ছেলেমেয়েরা কখনো মেনে নেবে না,সংসারে অশান্তি তৈরি হবে।
 
   একদিন জামাল সাহেবকে না জানিয়ে হাসপাতালে গিয়ে লিনা কপার-টি ফেলে দিয়ে আসে। মা ডাক শোনার জন্য তার মনটা ছটফট করতে থাকে।
 
    এর ছয় মাস পর জামাল সাহেব বুঝতে পারেন, তার স্ত্রী  তিন মাসের গর্ভবতী! তিনি লিনাকে চাপ দিতে থাকেন বাচ্চা নষ্ট করার জন্য। লিনাকে রাজি করাতে না পেরে তিনি অসহায় বোধ করতে থাকেন। এরিমধ্যে তার ছেলেমেয়েরা জেনে যায়।তারাও চাপ দেয় বাচ্চা নষ্ট করার জন্য।
   
    লিনা একটা সন্তানের মা ডাক শোনার জন্য ছটফট করে। তার মনে হয়, তার পেটে যে অনাগত সন্তান আসছে,এটাই তার জীবন। এই জীবন সে কিছুতেই নষ্ট করতে পারবে না।
   
    জামাল সাহেবের ছেলেমেয়েরা লিনাকে শর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়। যখন কিছুই করা সম্ভব হয় না,তখন তারা তারা বাবাকে চাপ দেয় লিনাকে তালাক দেওয়ার জন্য। তারা লিনার চরিত্রকে নষ্ট উপাধিতে ভূষিত করে। তারা প্রচার করে বেড়ায়,লিনা একজন নষ্ট মেয়ে!
   
    জামাল সাহেব ছেলেমেয়েদের কাছে অসহায় বোধ করতে থাকেন। তিনি বুঝতে পারছেন বয়স হয়ে গেলে যতই সম্পদ থাকুক, ছেলেমেয়ের কাছে এক সময় মূল্যহীন হয়ে পড়তে হয়!
   
    তারা লিনাকে টাকাপয়সার লোভ দেখায়।হুমকি দেয়।কাজ না হওয়ায় অবশেষে তারা জামাল সাহেবকে  বাধ্য করে লিনাকে তালাক দেওয়ার জন্য। লিনার সন্তান মানুষ করার জন্য তারা দশ লাখ টাকা লিনার হাতে তুলে দেয়।
   
    দশ লাখ টাকা লিনার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। সে টাকার সাথে সন্তানের তুলনা করতে চায় না,টাকা দিয়ে  সন্তানের সত্ব বিক্রি  করবে না।
   
    সে উঠে দাড়ায়।অশ্রুঝরা চোখে পেটে হাত দিয়ে সন্তানের অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করে, তারপর ধীরে ধীরে বের হয়ে যায় ঘর থেকে!

লেখকঃহানিফ ওয়াহিদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ