তুমি এক মানবী,তুমি এক পরিবর্তনশীল শরীরী৷
তোমার ক্ষুধা আছে,তৃষ্ণা আছে৷
আছে তোমার অস্থি, চর্ম,ধমনী ৷
দিবসের পর রাত্রি,সপ্তাহ পর পক্ষ
অতীত হইয়া দেখিতে দেখিতে কালচক্রের অধীনে তুমি যৌবনে পদার্পণ করিলে৷
ইহারপর তোমার দেহমন রোমাঞ্চিত হইবে৷ কাহারো অপক্ষায়,অধীর ইচ্ছায় পথপানে পলকহীন চাহিয়া থাকিবে ৷
নির্ঘুম রজনী, প্রভাত করিবে উষার সময়ে সবার অগ্রে৷
যতোক্ষণ কাছে আসিবেনা ততক্ষণ সন্দিহান হইয়া কোন এক অজানা ভয় অনুভব করিবে৷
অপেক্ষায় বিলম্বিত করিলে তোমার আকণ্ঠ শুকাইয়া যাইবে,
সামান্য ব্যাথাঘাতে পাহাড়সম কষ্ট সহন করিবে ৷
তখন আন্দোলিত মৃদু প্রবাহেও হৃদয় সমুদ্রে প্রবল তরঙ্গ উথাল-পাথাল করিবে৷
কিন্তু তোমার এই জীবন-যৌবন মৌমক্ষির মতই ছিলো মৌবন৷
সহসাই তাহা মধু হরণ করিয়া হইবে ধ্বংসের অনল৷
যখন বসন্তের কোকিলটা মায়াবী সুর হারাইয়া ভাঙ্গা কন্ঠে প্রভাত করিবে,
যখন কাননের প্রস্ফুটিত পুষ্পটি সুরভিহীন
হইয়া ধূসরিত হইবে তখন যৌবনের অন্তহীন মোহভোগের পরিসমাপ্তি ঘটিবে৷
ইহার হেতু কী? :চতুর্দশী পূর্ণিমার চাঁদটা যখন দ্বিপক্ষে
তখন কিন্তু প্রথম পক্ষের ন্যায় আলোক রশ্মির নিরঙ্কুশ হয়না৷
ওহে যুবক! যেথায় বায়ুর গতিবিধি ছিলনা সেথায় তুমি গমন করিতে,
নিকষকালো রজনীকান্তের কর্ণবধির কারী বজ্রনিনাদেও অবিরাম চলিতে৷
তোমার শৌর্যবীর্যের প্রতাপে শত্রুরা পরাজয়বরন করিতো ৷
তুমি যখন সবল তোমার অহংকারে, অপশক্তিতে সম্বলহীন হেতু কাঁপিতো থরথর ৷
ওহে ষোড়শী! যে সাধক সাধনায়রত জীবনমোহ ত্যাগিয়া যৌবনকে করিয়াছে মৃত্তিকায় তাহার শুকনো কাষ্ঠখন্ডে জাগিয়া দিতে অন্তহীন চাওয়া৷
ভবঘুরে ঐ ব্রাহ্মণের প্রাণহীন খরাদেহেও প্রবাহ করিতে পারিতে মাতাল হাওয়া৷
কতো ভূতলে পথচারী তোমার অক্ষিবাঁকের মোহনীয়তায় থাকিতো বেপরোয়া ৷
তোমার উনুনের উষ্ণতায় আগলাইয়া রাখিতে
বহু নরকে৷
সে উষ্ণতার শীতল হইলে কাছে পাবেনা কাহাকে৷
সংক্ষেপিতঃ তোফায়েল আহমাদ

0 মন্তব্যসমূহ