আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

শিক্ষকদের গায়ে হাত এদেশের ভবিষ্যৎ কী

 


আমি একজন শিক্ষক তাই বলতে ইচ্ছে করছে।

আমাদের সময়ে শিক্ষকের কাছে অভিভাবকের কোন অভিযোগ ছিলোনা। শিক্ষকদেরও কোন আবদার আপত্তি ছিলোনা।

এখনও প্রতিটা আদর্শ শিক্ষক চায় তার ছাত্র ভালো রেজাল্ট করুক, আদর্শবান হোক। বড় কোন নামি-দামি জব করুক।

বিনিময়ে শিক্ষক শুধু চায় সে যেন অনেক বড় হয় এবং ছাত্র পরিচয়টুকু দেয় যে, তিনি আমার শিক্ষক। 


এখন সকল শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে, শিক্ষার মান অনুন্নত হলেও এর সম্পূর্ণ দায়ী শিক্ষকগণ নন। সিস্টেমের সমস্যা। যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতার অভাব। 

আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থা হলো কোনটা, চা, কোনটা চিনি এটা বলতে পারি কিন্তু চা কিভাবে বানাতে হবে সেটা জানিনা। মানে আমাদের থিওরি জানা আছে কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি জানা নেই। যারা প্র্যাক্টিক্যালি কিছু করতে পারবেনা শিক্ষার পেছনে এই শ্রম-মেধার বিসর্জন হবে কিন্তু কখনো তাদেরকে মেধাবী বলা যাবেনা।

যেই মেধাবীদের নিয়ে আজকের লেখা।অনেক শিক্ষককে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে এবং এই পেশা সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছি। যদিও আমার শিক্ষার সাথে সরকারি চাকরীর সাথে কোন পরিচয় নেই। আমাদের শিক্ষকতা পেশায় চাকরিতে কোটা না থাকলেও তোষামোদী আছে, এখানে অনিয়ম না হলেও নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। তবে যোগ্যতার, মেধার যথেষ্ট মূল্যায়ন আছে। বৈষম্যও আছে, অবমূল্যায়নও আছে।

সামান্য কিছু নামে মাত্র অযিফা/বেতন। যারা অনেক সখ ও চাহিদার বিসর্জন দিয়ে পরিবারের সাথে চাওয়া, না পাওয়ার গল্প বলে সংসারিক জীবন পরিচালনা করে।

তারা সমাজের লোকদের সাথে ভদ্র ও সাধু পরিচয়ে ঠোঁটে ঈষৎ হাসির রেখা টেনে কথা বলে। যাদেরকে রাষ্ট্র চতুর্থ  শ্রেণীর নাগরিকদের সুবিধা দিতেও অস্বীকার করে। এরপরেও বিশাল একটা শিক্ষক পেশার সংখ্যা যারা সামন্য বেতনেই খুশি। কারণ তারা যাদেরকে পড়ায় তারা অন্তত বেয়াদব নয়। পিতা-মাতার চেয়ে বেশি সম্মান করে, শিক্ষকদের সাথে কথা বললেও মাটির দিকে চেয়ে কথা বলে।

আমি একজন শিক্ষক তাই বলতে ইচ্ছে করছে।

যখন প্রাইমারিতে পড়ি তখন ছোট্ট ছিলাম। স্যারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আমার ভাবনা-চিন্তার বয়স ছিলনা।

পরবর্তীতে যখন  জানতে পারি ওনার বেতন পরিবারের খরচ তখন অবাক হয়েছি।

খুব যত্নসহকারে পাড়াতেন,হাস্যজ্বল চেহারায় সবসময় আমাদেরকে ক্লাস নিতেন। শাসন করতেন। পড়তে হবেই না হয় শাস্তি। এখন শাসন করা যায়না। পড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা যায়না। ছাত্রের গার্ডিয়ান ওমুক-তমুক। কোন দলের লিডার বা ক্যাডার তাকে কিছু বলা যাবেনা। অভিভাবকদের অভিযোগের শেষ নেই। 

বাবা-মা সবসময় বলতেন শিক্ষক যেই হোক তার সম্পর্কে কোন প্রকার আলোচনা-সমালোচনা করা যাবেনা। এটা  পারিবারিক শিক্ষা, একজন সচেতন গার্ডিয়ানদের দায়িত্ব। তার সন্তান শিক্ষাগুরুর সাথে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করবে। একজন ছাত্র যখন তার শিক্ষাকের সাথে আদবী-শ্রদ্ধাশীল আচরণের মেজাজ হারাবে আমি মনে করি তার পড়াশোনার অধিকার নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে সময় অতিবাহিত হচ্ছে তা ভবিষ্যতে ছাত্র প্রজন্মকে ভয়ংকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

প্রাইমারী থেকে শুরু করে কোন ভার্সিটিতে শিক্ষক কে হবেন? কোন কলেজের অধ্যক্ষ কে হবেন সবকিছু নিজেদের সুবিধা বা মতানুযায়ী হতে হবে।

না হয় অন্যদেরকে জুতোর মালা পড়িয়ে বের করতে হবে, জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদত্যাগপত্রে সাক্ষর করিয়ে নির্লজ্জ অট্টহাসি দিয়ে শিক্ষককে আপমান -লাঞ্ছিত করে বিদায় করতে হবে! এরা কারা ছাত্র না অন্য কেউ? যে ছাত্র হবে সে কখনোই তার শিক্ষকের সাথে এমন আচরণ করতে পারেনা।

শিক্ষকতা পেশায় এমন বিভৎস, অসভ্য দৃশ্য ইতিপূর্বে মনে হয় কোন দেশ-জাতী দেখে নাই।

যতটুকু জানা যায় এই পেশায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোন অনিয়ম করে আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট পরিমাণ মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ হয়।

এখানে শিক্ষকরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবেন বিষয়টা এমন নয়।

ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। হয়তোবা কেউ কেউ অবৈধ অনিয়মে চাকরি নিয়েছে। 

প্রমাণ সাপেক্ষে বহিষ্কারযোগ্য। 

এই জন্য তাকে জুতোর মালে গলায় দিয়ে বের করতে হবে এটা কোন মেধাবী-বিবেকবান আদর্শ শিক্ষার্থীর কাজ হতে পারেনা।

সিস্টেমের গড়মিল ছিলো,চাকরীতে বৈষম্য ছিলো। এর জন্য ব্যাক্তি হিসেবে কাউকে অপনান-অপদস্থ করা কোনভাবেই প্রতিশোধ, প্রতিবাদের ভেতর পরেনা।

সবচেয়ে বড় কথা হলো। শিক্ষকতা একটা সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা। যারা মানুষকে আদর্শ করে, নিজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। তাদের দেশ পরিচালনার দায়ীত্ব না থাককেও পুরো দেশ-এবং জাতীকে নিয়ে ভাবে।

অথচ আজ যে মেধার অধিকার নিয়ে আন্দোলন সেই মেধার বহিঃপ্রকাশ কিভাবে হবে হবে যদি শিক্ষক পেশার কলঙ্কিত হয়!


তোফায়েল আহমাদ 

২৫/৮/২৪ খৃঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ