সা'আদ সাহেবের ভুলগুলো
উপমহাদেশের দ্বীনিশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দের সূর্যসন্তান মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ) গভীর চিন্তাভাবনা ও উলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা ও পরামর্শেক্রমে সমাজের সর্বস্তরে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছানো এবং মুসলমানদের ঈমানী চেতনা পুনর্জীবিনের লক্ষে 'দাওয়াত ও তাবলীগ' নামে এক ঈমানী আন্দলন শুরু করেন। যা আমাদের কাছে তাবলীগ জামাত নামে পরিচিত। বিশ্বের এমন কোন ভূখণ্ড ও জনবসতি নেই যেখানে তাবলীগ জামাতের সুফল পৌঁছেনি। অসংখ্য পথহারা মানুষের পথের দিশা পেয়েছে এ জামাতের মেহনতের ফলে। কিন্ত অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এ মেহনতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা এক মুরব্বি মাওলানা সা'দ সাহের বিগত কয়েক বছর যাবৎ একের পর এক কুরআন -হাদীস বিরোধি নিজস্ব মনগড়া বিভ্রান্তিকর বক্তাব্য দিতে থাকে। তখন উলামায়ে কেরাম বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি সংশোধিত হননি। ফলে তাবলীগের সর্বস্তরে মারাত্মক অনৈক্য ও বিভোজন দেখা দেয়। যা সম্প্রতি মুসলিম সমাজে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার রূপ ধারন করেছে। এ পরিস্হিতিতে উলামায়ে কেরাম তার ভ্রান্ত বক্তব্যগুলো সম্পর্কে মুসলমানদেরকে সচেতন করার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করছেন। মাওলানা সা'দ সাহেবের কুরআন -হাদীস বিরোধী উল্লেখযোগ্য মারাত্মক ভ্রান্ত বক্তব্যগুলো নিম্নরূপ:[১] হেদায়াত আল্লাহর হাতে নয়!
মাওলানা সা'দ বলেছেন
"হেদায়াতের ব্যাপার যদি আল্লাহর হাতে হতো তাহলে নবী পাঠাতেন না "
[অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চান আল্লাহ তা'অালার হাতে হেদায়াত নেই। [নাউযুবিল্লাহ]
[২] মসজিদ মাদ্রাসার বেতন বেশ্যার উপার্জন থেকেও খারাপ।
" মসজিদ মাদ্রাসার বেতন বেশ্যার উপর্জনের চেয়ে খারাপ। যারা কুরআন শরীফ শিখিয়ে বেতন গ্রহন করেন তাদের বেতন বেশ্যার উপর্জনের চেয়েও খারাপ। যে ইমাম এবং শিক্ষক বেতন গ্রহন করেন, বেশ্যারা তাদের আগে জান্নাতে জাবে।"[নাউযুবিল্লাহ]
[৩] যে সকল আলেম তাবলীগ জামাতে সক্রিয় নয় তাদের কথা শোনা যাবে না। তাদের কাছে মাসআলা জিঞ্জেস করা জাবে না।
[মন্তব্যঃ এভাবে প্রকাশ্য, স্পষ্ট ভাষায় সর্বসাধারণ মুসলমানদেরকে দ্বীন ও শরীয়তের পথপ্রর্দশক উলামায়ে কেরাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে এই সা'দ সাহেব ]
[৪] তওবা কবুলের জন্য তাবলীগে যাওয়া শর্ত!
"তওবা কবুলের তিনটি শর্ত মানুষ জানে। কিন্ত চতুর্থ শর্ত 'আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া' মানুষ ভুলে গিয়েছে। "
[৫] তাবলীগ জামাতে না যাওয়া সবচেয়ে বড় গুনাহ!
"আপনাদের কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো চুরি ব্যভিচার। এটা বড় গুনাহ সত্য, তবে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো - খুরুজ ( তথা তাবলীগ জামাতে বের না হওয়া)
[৬] সা'দ সাহেবকে আমীর না মানলে সে জাহান্নামী!
" খোদার কসম ! আমি আমীর। আমাকে যে আমীর মানবে না সে জাহান্নামী! "
[৭] পরামর্শের গুরুত্ব নামাযের চেয়েও বেশি !
"তাবলীগের " পরামর্শের গুরুত্ব নামাযের চেয়েও বেশি। নামাযের জন্য মসজিদে আসার চেয়ে পরামর্শের জন্য মসজিদে আসা বেশি জরুরী !
[মন্তব্যঃ অথচ ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আমল হলো -নামায]
[৮] তাবলীগের পরামর্শ থেকে চলে যাওয়া কবীরা গুনাহ !
" তাবলীগের " পরামর্শ থেকে চলে যাওয়া জিহাদ থেকে পালায়নের মত কবীরা গুনাহ। "
[৯] ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায় না !
" দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য আসে, ইবাদতের মাধ্যমে নয় "
[১০] আল্লাহ, আল্লাহ, জিকিরে কোন লাভ নেই !
"সকাল সকাল কুরআন তেলাওয়াত করা এবং নফল নামাজ পড়ার তো একটা অর্থ আছে। কিন্ত আল্লাহ, অাল্লাহ বলে জিকির করে কি অর্জন হয় ? কিছুই অর্জন হয় না। "
[১১] দিল্লীর নিজামুউদ্দীন মারকাজের ব্যপারে ভুল ধারনা করা যাবে না !
" নিজামুদ্দীন মারকাজের ব্যপারে ভুল ধারণা মক্ক মদীনার ব্যপারে ভুল ধারণার সমান। "
[১২] মক্কা মদীনার পর সন্মানিত স্হান নিজামুদ্দীন [ তাবলীগের দিল্লী মারকায ] নিজামুদ্দীন "
[১৩] মসজিদের বাইরে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া সুন্নাত পরিপন্থি !!!
[১৪] তাসাউফ নবীর পথ নয় !!!
" দাওয়াতের পথ ' হলো নবীর পথ, তাসাউফের পথ' নবীর পথ নয়। " [নাউযুবিল্লাহ ]
>>>>>আমাদের করণীয়: <<<<<
সুতারাং যে আলেম থেকে এমন ভয়াবহ রকমের বিচ্যুতি ও অসঙ্গতি প্রকাশ পায় তিনি কোন ভাবেই শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসলমানদের অনুসরণযোগ্য থাকতে পারে না। এমন গোমরা ও পথভ্রষ্ট অালেমের অনুসরণ ও আনুগত্য শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ন নাজায়েয। তাকে যারা অনুগত্য করবে তারাও পথভ্রষ্ট ও গোমরাহ বলে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তা'অালা আমাদের সকলকে ঈমান আমল হেফাজত করার তাওফিক দান করুন।
লেখকঃ মাওলানা মুহাঃ জাহিদুল ইসলাম
facebok

0 মন্তব্যসমূহ