লাইলাতুলকদরের ফজিলত
«وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقدم من ذنبه
অনুবাদ: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
শর্তের ব্যাখ্যা:
ঈমান: আল্লাহ, তাঁর রাসূল, পরকাল এবং ইসলামের বিধানের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে ইবাদত করা।
ইহতিসাব: কোনো লোকদেখানো উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রতিদানের আশা করা।
ক্ষমার সীমা: এই ক্ষমা মূলত বান্দা ও আল্লাহর মাঝখানের গুনাহের জন্য। মানুষের হক (যেমন: ঋণ বা কারো ওপর জুলুম) এর অন্তর্ভুক্ত নয়; সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে
লাইলাতুল কদর গোপন রাখার হিকমত
মানুষ স্বভাবগতভাবে রহস্য বা গোপন কিছু খুঁজতে পছন্দ করে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের এই স্বভাবকে ইবাদতে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছেন যাতে তারা শেষ দশকের প্রতিটি রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট থাকে।
এটি খোঁজার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের রাতগুলোর মধ্যে লাইলাতুল কদরকে গোপন রেখেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানিয়েছেন:
أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَبَانَ أَنَّ مَظَانَّ الْتِمَاسِهَا الْعَشْرُ الْأَوَاخِرُ مِنْهُ
অনুবাদ: "রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, এটি (লাইলাতুল কদর) তালাশ করার সম্ভাব্য সময় হলো রমজানের শেষ দশ দিন"।
উদ্দেশ্য: যাতে মুমিন বান্দা ইবাদতে অধিক সচেষ্ট হয়, নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনে এবং শেষ দশকের প্রতিটি রাতে ইবাদতের মাধ্যমে এই মহান রাতের বরকত লাভের চেষ্টা করে।
গোপন রাখার হিকমত (প্রজ্ঞা):
লাইলাতুল কদর গোপন রাখা অনেকটা জুমার দিনের 'দোয়া কবুলের সময়' এবং আল্লাহর 'ইসমে আজম' (মহিমান্বিত নাম) গোপন রাখার মতোই। এর মূল কারণসমূহ হলো:
কর্মে উৎসাহ প্রদান: কোনো কিছু নির্দিষ্ট না থাকলে মানুষ তা পাওয়ার জন্য বেশি পরিশ্রম ও চেষ্টা করে।
পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষা: যখন মানুষ জানে না ঠিক কোন রাতে এটি হবে, তখন সে পুরস্কারের আশায় সব কটি রাতেই ইবাদত করে। যারা এই পরিশ্রম করে আল্লাহকে পাওয়ার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাদের সেই ফল দান করেন।
লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে গোপন রাখার একটি বড় প্রজ্ঞা বা হিকমত হলো—যাতে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এই মহান রাতের সন্ধানে পুরো শেষ দশক ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করে এবং অধিক মনোযোগের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে।
এটি আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, ইবাদতের এই দিনগুলো কেনাবেচার বাজারের মতো। যেমন:মানুষ যখন পার্থিব বাজারের কোনো লাভজনক স্থানে প্রবেশ করে, তখন তারা প্রতিটি কোণ ও গলি খুঁজে দেখে যাতে সবচাইতে ভালো পণ্যটি সবচাইতে কম দামে সংগ্রহ করতে পারে,এবং বেশী দামে বিক্রি করে লাভবান হয়।
তাই পরকালের ব্যবসায়ীদের (মুমিনদের) উচিত দুনিয়ার ব্যবসায়ীদের মতো এই পবিত্র দিনগুলোতে কল্যাণের সবচাইতে ভালো উৎসগুলো এবং মহান রবের নৈকট্য লাভের মুহূর্তগুলো খুঁজে বের করা। যখন তারা এই সম্ভাবনাময় মুহূর্তগুলো গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধান করবে, তখনই আমরা কদরের তাৎপর্য হাসিল করবো এবং ঐশ্বরিক ধনভাণ্ডার তথা পুরস্কার
লাভে ধন্য হবো।
লাইলাতুল কদরের বৈশিষ্ট্যসমূহের সারসংক্ষেপ:
কুরআনে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে আমরা এই রাতের ছয়টি প্রধান বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাই:
প্রথম বৈশিষ্ট্য:
এটি ভাগ্য নির্ধারণের রাত। অর্থাৎ: এই রাতে আগামী বছরের এই সময় পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে—যেমন বৃষ্টি, রিযিক, জীবন ও মৃত্যু—তার যাবতীয় ফয়সালা ও ব্যবস্থাপনা লওহে মাহফুজ থেকে বণ্টন করা হয়। আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত সম্মান, মহিমা ও সুউচ্চ মর্যাদার রাত।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য:
এটি একটি মোবারক বা বরকতময় রাত। অর্থাৎ: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এই রাতে বরকত নাযিল করেন, তাঁর রহমত বহুগুণ বাড়িয়ে দেন, আমলের সওয়াব বৃদ্ধি করেন এবং তাদের দোয়া কবুল করেন।"
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: خير من ألف شهر
এটি এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য:
ফেরেশতারা এবং (জিবরাঈল আ.) এই রাতে অবতীর্ণ হন। তাঁরা মুমিনদের ইবাদত প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁদের জন্য শান্তির দোয়া করেন।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য:
এটি ফজর পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তার রাত। এই রাতে মুমিনদের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রশান্তি বর্ষিত হয়।
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: ليلة سلام
এটি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত শান্তিময় ও নিরাপদ রাত এবং এটি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী আবর্তিত হয়।
সুন্নাহ বা হাদীসে বর্ণিত লাইলাতুল কদরের বাহ্যিক আলামতসমূহ:
১. ইমাম তায়ালিসি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেছেন:«لَيْلَةٌ سَمْحَةٌ طَلْقَةٌ، لَا حَارَّةٌ وَلَا بَارِدَةٌ، وَتُصْبِحُ شَمْسُ صَبِيحَتِهَا ضَعِيفَةً حَمْرَاءَ»
অনুবাদ: "এটি একটি প্রশান্ত ও উজ্জ্বল রাত, যা খুব গরমও নয় আবার খুব ঠান্ডাও নয়। আর এর পরবর্তী ভোরে সূর্য লালচে এবং দুর্বল (নিষ্প্রভ) অবস্থায় উদিত হয়"।
২. জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
«إِنِّي رَأَيْتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَأُنْسِيتُهَا، وَهِيَ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ لَيَالِي رَمَضَانَ وَهِيَ طَلْقَةٌ بَلْجَةٌ، لَا حَارَّةٌ وَلَا بَارِدَةٌ، كَأَنَّ فِيهَا قَمَراً، لَا يَخْرُجُ شَيْطَانُهَا حَتَّى يُضِيءَ فَجْرُهَا»
অনুবাদ: "আমি লাইলাতুল কদর দেখেছি অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে রয়েছে; এটি একটি উজ্জ্বল ও পরিষ্কার রাত, নাতিশীতোষ্ণ এবং এতে যেন চাঁদ হাসছে। ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত শয়তান এই রাতে বের হতে পারে না"।
মুসলিমের বর্ণনায় জির বিন হুবাইশ (রা.) উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন:
أخبرنا رسول الله ﷺ: «أنها تطلع يومئذ لا شعاع لها»
অনুবাদ: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের জানিয়েছেন যে, সেই দিন (লাইলাতুল কদরের পরদিন) সূর্য উদিত হয় এমনভাবে যে তাতে কোনো প্রখর কিরণ থাকে না"।
সুন্নাহ বা হাদীসে লাইলাতুল কদরের সময় নির্ধারণ:
হাদীসে এই রাতের সময় সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে, তবে সঠিক মত হলো এটি রমজানের শেষ দশকে।
১. ইমাম বুখারী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
«تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ»
অনুবাদ: "তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো"।
২. ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেছেন:
«الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ. لَيْلَةُ الْقَدْرِ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى، فِي سَابِعَةٍ تَبْقَى، فِي خَامِسَةٍ تَبْقَى»
অনুবাদ: "তোমরা রমজানের শেষ দশ দিনে এটি তালাশ করো। লাইলাতুল কদর (শেষ দিক থেকে) নবম রাত বাকি থাকতে (অর্থাৎ ২১ তারিখ), সপ্তম রাত বাকি থাকতে (অর্থাৎ ২৩ তারিখ) এবং পঞ্চম রাত বাকি থাকতে (অর্থাৎ ২৫ তারিখ)"।
৩. ইমাম বুখারী ও মুসলিম আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন:
«أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ»
অনুবাদ: "আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো শেষ সাত দিনের ব্যাপারে এক হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি তালাশ করতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতে তা তালাশ করে"।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট স্বপ্নগুলোর এই সামঞ্জস্যতাকে একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল. অতঃপর তিনি বললেন:
«فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ»
অনুবাদ: "সুতরাং যে ব্যক্তি এটি (লাইলাতুল কদর) অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতে তা তালাশ করে।" (অর্থাৎ মাসের ২৩ তারিখ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে).
৪. ইমাম বুখারী উবাদাহ বিন সামিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের লাইলাতুল কদর সম্পর্কে খবর দিতে বের হলেন, তখন দুই ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত ছিল. তিনি বললেন:
«خَرَجْتُ لِأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلَاحَى فُلَانٌ وَفُلَانٌ فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ، وَالسَّابِعَةِ، وَالْخَامِسَةِ»
অনুবাদ: "আমি তোমাদের লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি ঝগড়া লিপ্ত হওয়ায় (তার সুনির্দিষ্ট জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব তোমরা এটি (শেষ দশকের) নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তালাশ করো।"
অর্থাৎ: রমজানের শেষ দশকের এই রাতগুলোতে. এখানে জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্মৃতি থেকে সেই মুহূর্তে এর সুনির্দিষ্ট সময়টি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল. বুখারী ও মুসলিমের অন্য একটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সা.) বলেছিলেন:
৫. ইমাম বুখারী ও মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের প্রথম দশ দিন এবং তারপর মধ্য দশ দিন তুর্কি তাবুর ভেতরে ইতিকাফ করলেন. অতঃপর তিনি মাথা বের করে বললেন:
«إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوَّلَ أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الْأَوْسَطَ، ثُمَّ أُتِيتُ فَقِيلَ لِي: إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفْ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، فَقَدْ أُرِيتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا، وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ مِنْ صَبِيحَتِهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ»
অনুবাদ: "আমি এই রাতের সন্ধানে প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করেছি, তারপর মধ্য দশ দিনও ইতিকাফ করেছি। অতঃপর আমার নিকট ফেরেশতা এলেন এবং আমাকে বলা হলো—নিশ্চয়ই এটি শেষ দশকে। সুতরাং যারা আমার সাথে ইতিকাফ করেছে তারা যেন শেষ দশদিনেও ইতিকাফ করে। আমাকে এই রাতটি দেখানো হয়েছিল, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি স্বপ্নে নিজেকে এই রাতের পরবর্তী ভোরে কাদা ও পানির মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। অতএব তোমরা এটি শেষ দশকে এবং প্রতিটি বেজোড় রাতে তালাশ করো।"
লাইলাতুল কদরে ফেরেশতাদের অবতরণ সম্পর্কে সুন্নাহর বর্ণনা:
ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
«إِذَا كَانَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ نَزَلَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي كَبْكَبَةٍ (١) مِنَ الْمَلَائِكَةِ يُصَلُّونَ عَلَى كُلِّ عَبْدٍ قَائِمٍ أَوْ قَاعِدٍ يَذْكُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ عِيْدِهِمْ بَاهَى بِهِمْ مَلَائِكَتَهُ فَقَالَ: يَا مَلَائِكَتِي، عَبِيدِي وَإِمَائِي قَضَوْا فَرِيضَتِي عَلَيْهِمْ ثُمَّ خَرَجُوا يَعِجُّونَ إِلَى الدُّعَاءِ، وَعِزَّتِي وَجَلَالِي وَكَرَمِي وَعُلُوِي وَارْتِفَاعِ مَكَانِي لَأُجِيبَنَّهُمْ»
«فَيَقُولُ: ارْجِعُوا فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ وَبَدَّلْتُ سَيِّئَاتِكُمْ حَسَنَاتٍ» قَالَ: «فَيَرْجِعُونَ مَغْفُورًا لَهُمْ».
"যখন লাইলাতুল কদর আসে, তখন জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের একটি বিশাল দলের সাথে অবতীর্ণ হন। তাঁরা এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য দোয়া করতে থাকেন যারা দাঁড়িয়ে বা বসে মহান আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকে। অতঃপর যখন তাদের ঈদের দিন আসে, তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের কাছে ঐ বান্দাদের নিয়ে গর্ব করেন এবং বলেন: হে আমার ফেরেশতারা! আমার দাস ও দাসীরা তাদের ওপর অর্পিত আমার ফরজ দায়িত্ব পালন করেছে এবং উচ্চস্বরে প্রার্থনা করতে করতে (ঈদের ময়দানে) বের হয়েছে। আমার সম্মান, মহিমা, দানশীলতা এবং সুউচ্চ অবস্থানের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের ডাকে সাড়া দেব। অতঃপর আল্লাহ বলেন: তোমরা ফিরে যাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমাদের মন্দ কাজগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: অতঃপর তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় ফিরে যায়।"
*(১) কাবকাবা (كبكبة) অর্থ: দল বা জামাত।
'ফেরেশতারা দোয়া করেন' এর অর্থ হলো তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
'আল্লাহ গর্ব করেন' এর অর্থ হলো আল্লাহ ফেরেশতাদের নিকট তাঁর বান্দাদের ইবাদত ও আনুগত্যের প্রশংসা করেন।
লাইলাতুল কদরের দোয়া:
মুমিনদের উচিত এই রাতগুলোতে অধিক পরিমাণে সেই দোয়াটি করা যা রাসূলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে শিখিয়েছেন:
«اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي»
অনুবাদ: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।"
(ইমাম আহমদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী সহীহ সনদে আয়েশা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন)।

0 মন্তব্যসমূহ