আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন!01958666697 তথ্য বহুল ইসলামিক সব আলোচনা পেতে আমাদের সাথেই থাকুন! ভর্তি চলছে, ক্বারী ইয়াকুব আলী রহ. ইসলামিয়া মাদরাসা,যোগাযোগ:01609216916 🧬 জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন বিপ্লব শুরু হতে যাচ্ছে...

শাবান মাসের আমল ও শবে বরাতের ফজিলত

 

শাবান মাসের আমল ও শবে বরাতের ফজিলত

  • শাবান মাস ও শবে বরাতের আমল ও ফজিলত।

শাবান মাস এটি সম্মানিত মাসগুলোর একটি।
যে মাসে বেশী করে নফল ইবাদত করার জন্য হাদীসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
عن اسامةابن زيد قال: قلت يا رسولَ اللهِ، لم أرَك تصومُ شهرٍ من الشُّهورِ ما تصومُ من شعبانَ قال ذلك شهر يغفل الناس عنه بين رجب ورمضان وهو شهر
ترفع فيه الاعمال الي رب العالمين فاحب أن يرفع عملي وأنا صائم
উসাম ইবনে যায়েদ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আপনাকে শাবান মাসে যতো রোজা রাখতে দেখি অন্য মাসে এতো দেখিনা। ( এর কারণ কি) উত্তরে তিনি বললেন, রজব এবং রমজান মাসের মাঝে শাবান এটা এমন মাস যা সম্পর্কে মানুষ উদাসীন।
আর শাবান এটা সেই মাস যে মাসে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলনামা উঠানো হয়। আর আমি পছন্দ করি যে রোজা রাখা অবস্থায় আমলনামাগুলো পেশ করা হোক
عن عائشة رضي الله عنها قالت:
فما رأيت رسول الله صلي الله عليه وسلم استكمل صيام شهر الا رمضان وما رأيته اكثر صياما منه في شعبان
হযরত আয়েশা রা: হতে বর্ণিত,তিনি বলেন আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে পূর্ণ মাস রোজা রাখতে দেখিনি। আমি তাঁকে (রমজান মাস ছাড়া) শাবান মাস অপেক্ষা অন্য কোন মাসে এতো বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।-----সহীহ্ বুখারী হাদীস নং ১৯৬৯

  • শাবান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও রোজা।

হযরত আয়েশা রা: হতে অন্য এক হাদিসে বর্ণিত
كان احب الشهور الي رسول الله صلي الله عليه وسلم
أن يصومه شعبان
রোজা রাখার জন্য রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে পছন্দনীয় মাস ছিলো সাবান মাস।
সবান মাসের রোজা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এতো পছন্দ হও কারণ কি? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথম হাদীসটি হযরত উসামা রা: এর হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে,এই মাসে বান্দার আমলনামা আল্লাহ তায়ালার কাছে উঠানো হয়। সমস্ত আমলের মাঝে রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের উন্নতম মাধ্যম। এছাড়াও এই মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা,নফল নামাজ পড়া,কুরআন তেলাওয়াত করা। অতিরিক্ত নফল ইবাদত করতে না পারলেও ফরজ ইবাদাত কোনভাবেই যেন ছুটে না যায় লক্ষ্য রাখা। বিশেষ করে কোনভাবেই যেন আমাদের থেকে আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী, গোনাহের কাজ না হয় এই বিষয়ে সতর্ক থাকা।
শাবান মাস ফজিলত এবং ইবাদাতের দিকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরও একটি বড় সুসংবাদ হলো

শাবান মাসের অর্ধেকের রাত অর্থাৎ এই মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত
يَطَّلِعُ اللهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ.
আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (অর্থাৎ ১৪ তারিখের দিবাগত রাতে) তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন অতঃপর তার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।শুধুমাত্র তারা ব্যতীত যারা তাঁর সাথে অংশীদারীত্ব সাব্যস্ত করে,বিদ্বেষপোষণ করে। সহীহ্ ইবনে হিব্বান হাদীস ৫৬৬৫ বাইহাকী ৩/৩৮২ হাদীস ৩৮৩৩
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: خَمْسُ لَيَالٍ لَا يُرَدُّ فِيهِنَّ الدُّعَاءُ: لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَتِي الْعِيدَيْنِ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: পাঁচটি রাত এমন রয়েছে যে রাতগুলোতে বান্দার দুআ ফেরত দেওয়া হয়না অর্থাৎ বান্দার দুআ কবুল হয়- ১। জুমুআর রাতের দুআ। ২। রজব মাসের প্রথম রাতের দুআ। ৩। শবে বারাআতের দুআ। ৪,৫। দুই ঈদের রাতের দুআ। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং ৮১৭৫) তবে এই হাদিসটি দূর্বল।
সালাফী ও লা-মাযহাবী আলেমদের দৃষ্টিতে "শবে বারাআত"

যারা লায়লাতুন নিসফি মিন শাবানকে অস্বীকার করে বা গুরুত্বহীন মনে করে তাদের অনুসরণীয় আলেমদের মতামত দেওয়া হলো।

১. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. (৭২৮হি.) হাদীস ও আছারের আলোকে "শবে বারাআত"কে প্রমাণিত করতে গিয়ে "মাজমুউল ফাতাওয়া" কিতাবের ২৩ নং খণ্ডের ১৩৬ নং পৃষ্ঠায় লিখেন-
أَنَّهَا لَيْلَةً مُفَضَّلَةٌ وَأَنَّ لَيْلَةُ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، فَقَدْ رُوِيَ فِي فَضْلِهَا مِنَ الْأَحَادِيثِ الْمَرْفُوعَةِ وَالْآثَارِ مَا يَقْتَضِي أَ مِنَ السَّلَفِ مَنْ كَانَ يَخُصُّهَا بِالصَّلَاةِ فِيْهَا، وَصَوْمُ شَهْرٍ شَعْبَانَ قَدْ جَاءَتْ فِيْهِ أَحَادِيثُ صَحِيْحَةٌ.
অর্থ: শবে বারাআতের ফযীলত সম্পর্কে অনেক মারফু হাদিস এবং সাহাবাদের বক্তব্য রয়েছে, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এটি একটি মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত রাত। এবং সালফে সালেহীনদের অনেকেই এই রাতকে নামাযের মাধ্যমে কাটাতেন এবং শা'বান মাসের দিনে রোজা রাখতেন, এবং এই রোজা সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদিসও বিদ্যমান রয়েছে। (মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৩/১৩৬
২.আরেকজন লা-মাযহাবী আলেম- শায়খ আবদুর রহমান মুবারকপুরী রাহ. (১৩৫৩হি.)। তিনি সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে "শবে বারাআত"কে ভিত্তিসমৃদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন। এবং যারা শবে বারাআতকে অস্বীকার করে তাদের বিরোদ্ধে বলেছে। যেমনটি তিনি জামে' তিরমিযী'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াযী'র ৩ নং খণ্ডের ৩৬৫ নং পৃষ্ঠায় লিখেন-
اعْلَمْ أَنَّهُ قَدْ وُرِدَ فِي فَضِيلَةِ لَيْلَةِ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ عِدَّةُ أَحَادِيثَ، مَجْمُوْعُهَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ لَهَا أَصْلًا، فَهَذِهِ الْأَحَادِيثُ بِمَجْمُوْعِهَا حُجَّةً عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ فِي فَضِيلَةِ لَيْلَةِ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ شَيْءٍ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ

(تحفة الأحوذي ٣٦٥/٣)
অর্থ: জেনে রাখো! শবে বারাআতের ফযীলত নিয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যার সমষ্টি দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয় এই ফযীলতপূর্ণ রাতের মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এবং এই হাদিসগুলো সুস্পষ্টভাবে ঐ সমস্ত লোকদের মতের বিরোদ্ধে প্রমাণ করে যারা ধারণা করে যে, শবে বারাআতের কোন ফযীলত নেই। আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
৩. গায়রে মুকাল্লিদদের ইমাম, শায়েখ নাসীর উদ্দীন আলবানী মারহুম তাঁর সিলসিলাতুল আহাদীসিস-সাহিহা'র ৩ নং খন্ডের ১৩৮-১৩৯ নং পৃষ্ঠায় লিখেন-
إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ الجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ
অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বারাআতে] আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।

"এই হাদিসটি সহীহ” কেননা এটি সাহাবাদের একটি বড় জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সনদে, আর প্রতিটি সনদ একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে।
তাদের মাঝে রয়েছেন
1. মুয়াজ বিন জাবাল রাযি.
2.হযরত আবু সা'লাবা রাযি.
3. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি.
4. হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি.
5.হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
6.হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.
7.হযরত আউফ বিন মালিক রাযি.
8. হযরত আয়েশা রাযি. প্রমুখ সাহাবাগণ
জামে' তিরমিযীর ৭৩৯ নং হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: فَقَدْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَخَرَجْتُ أَطْلُبُهُ، فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ رَافِعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ. فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ؟ قَالَتْ، قَدْ قُلْتُ: وَمَا بِي ذَلِكَ، وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ، فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النَّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعَرِ غَنَمٍ كَلْبٍ
অর্থ: হযরত আয়িশা রাযি. বলেন, এক রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনার কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, কি ব্যাপার আয়েশা? [তুমি যে তালাশে বের হলে? তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন? হযরত আয়শা রাযি. বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন- যখন শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বারাআত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক গোনাহগার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (জামে' তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯)
"শবে বারাআত" মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের রাত,যে রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দা এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন।
বরকতময় এই রাতের ফজিলত অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী এ রাতে অসংখ্য গুনাহগার ও পাপিষ্ঠকে আল্লাহ তাআলা'র পক্ষ থেকে ক্ষমার ঘোষণা করা হয় এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

শবে বরাতের আমল

ব্যক্তিগত ইবাদত:

ই রাতে বেশি বেশি জিকির করা

 কোরআন তেলাওয়াত করা।

নফল নামাজ পড়া, নির্দিষ্ট কোন রাকাত বা নামাজের সূরা,অথবা নির্দিষ্ট কোন নিয়ত নেই।দান সদকা করা,মৃত ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্য ইসালে সাওয়াব তথা দান, সদকা কোরআন তেলাওয়াত করে তাদের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা।কারো প্রতি বিদ্বেষ না রাখা,অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া।তওবা ও ইস্তেগফার বেশি করে করা।

বর্জনীয় বিষয়: পটকা ফোটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ঘটা করে হালুয়া-রুটি খাওয়ার মতো কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ